April 12, 2021, 10:58 pm

আবার বাড়ছে সংক্রমণ, মাঠে নামছেন ম্যাজিস্ট্রেট

চট্টগ্রামে আবার বাড়ছে সংক্রমণ, মাঠে নামছেন ম্যাজিস্ট্রেট
চট্টগ্রামে আবার বাড়ছে সংক্রমণ, মাঠে নামছেন ম্যাজিস্ট্রেট

প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। যারা টিকা নেননি তারাও মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। মিছিল-মিটিং কিংবা বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানে মানুষের ভিড়ের মধ্যেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। করোনার ভয়কে যেন জয় করে নিয়েছেন তারা। এ কারণে ঘরের বাইরেও মাস্ক পরছেন না চট্টলাবাসী। এভাবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে চট্টগ্রামে আবার বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৪০৩ জন। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮১ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দুইজন।

মানুষের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই করোনার সংক্রমণ আবারো বাড়ছে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। আর মুখে মাস্ক পরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণের হার ফের আশংকাজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘টিকাদান শুরুর পর করোনা নিয়ে মানুষের উদাসীনতা আরো বেড়েছে। যেন এক ধরণের অবহেলা কাজ করছে মানুষের মাঝে। যার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা, অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্কটিও দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া বিয়ে-গায়ে হলুদ, উৎসব, সংবর্ধনা-সম্মাননাসহ সব ধরণের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে হরহামেশাই। এসব অনুষ্ঠানে শারীরিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। এতে করে সংক্রমণ আবারো বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকেই। তা না হলে করোনায় সংক্রমণের হার ফের আশংকাজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের শরীরে এখনই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেনি। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার দু’সপ্তাহ পর তাদের শরীরে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। তাই ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই সকলকে মুখে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে শারীরিক দূরত্বও মেনে চলতে হবে।’

তিনি জানান, গতবছর (দেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে) এই সময়ে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। তাই এই সময়টায় আবারো করোনার সংক্রমণ আশংকাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। সে কারণে সবাইকে এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে সোমবার (১৫ মার্চ) থেকে ঘরের বাইরে মানুষ যাতে মুখে মাস্ক পরে বের হয়, সেটি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামছেন। যারা মুখে মাস্ক না পরে ঘরের বাইরে বের হবেন, তাদেরকে জরিমানা করা হবে।

এদিকে, চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এখানকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের জন্য বরাদ্দ সিট ভর্তি হয়ে গেছে। সেখানে নতুন রোগী ভর্তি করানো হচ্ছে না। সরকারী হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত ৩১টি শয্যার সবক’টিতে রোগী ভর্তি আছে জানিয়ে পরিচালক ডা. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগেও রোগীর সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে একটি শয্যাও খালি থাকছে না। শয্যা খালি না থাকায় অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।’ তিনজন করোনা রোগী আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।

পার্কভিউ হাসপাতালের জিএম জিয়াউর রহমান জানান, হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের জন্য বর্তমানে ২৯টি কেবিন নির্ধারণ করা আছে। এর একটি কেবিনও খালি নেই। খালি না থাকায় গত কয়েকদিনে বেশ কয়জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি নেয়া সম্ভব হয়নি, ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আইসিইউতে এখন সাতজন করোনা রোগী ভর্তি আছে।

মা ও শিশু হাসপাতালে বর্তমানে ৮৯ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হক। মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নির্ধারিত ৩৫টি কেবিনের মধ্যে বর্তমানে ২৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানান হাসপাতালের জিএম মোহাম্মদ সেলিম।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনায় আক্রান্তদের অনেকেই বাসায় বসে চিকিৎসা নেন। প্রথম দিকে হাসপাতালে আসছেন না। অনেকেই একদম অন্তিম মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। ততক্ষণে কিন্তু ওই রোগীর ফুসফুস অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। বাসায় থেকে ফুসফুস বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের রিকভার করার চান্স কম। এ ধরণের রোগীদের বাঁচানোটা খুবই কঠিন।

প্রসঙ্গত. বাংলাদেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর গত ৭ মার্চ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২ জুলাই চার হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। ২০২০ সালের ৩০ জুন একদিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। রোববার (১৪ মার্চ) দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৫ জন হয়েছে। আর করোনায় মোট আট হাজার ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২ কোটি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার (১৪ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১২ কোটি ৭৪ হাজার ৩৮৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৬ লাখ ৬০ হাজার ১৩০ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন নয় কোটি ৬৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭৩ জন।

#সারাক্ষণ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 "দৈনিক চট্টগ্রামের পাতা"
Design & Developed BY N Host BD