May 16, 2021, 1:11 pm

মমতার জয়ে নতুন বার্তা ভারতে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাল বুধবার শপথ নিতে যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। টানা তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। পরের দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শপথ নেবেন অন্য বিধায়করা। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। কারা মন্ত্রী হবেন সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে স্পিকার ঠিক করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা ব্যানার্জির এবারের জয় ভারতের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে।

এদিকে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর প্রশ্ন উঠছে মমতা ব্যানার্জি কি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন। সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো হ্যাঁ, তিনি পারেন। সংবিধানের ১৬৪ (৪) ধারা অনুযায়ী মন্ত্রী হতে গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো একটি আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে মমতাকে। কিন্তু ওই উপনির্বাচনে পরাজিত হলে তাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এমন অনেক উদাহরণ আছে যেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেও বা পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০১১ সালেই রাজ্যে যখন প্রথমবার তৃণমূল সরকারে আসে সে সময় সাংসদ ছিলেন মমতা। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী হন। নির্বাচনে না লড়ে ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। পরে উপনির্বাচনে জিতে আসেন তিনি।

গতকাল কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা ব্যানার্জি। পরে তৃণমূল কার্যালয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মমতা। উপস্থিত ছিলেন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জয়ী বিধায়করাও। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সিদ্ধান্ত জানান দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, পরিষদীয় দলের নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মমতাই। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বুধবার শপথ নেবেন মমতা। ৬ ও ৭ মে শপথ নেবেন বাকি বিধায়করা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিধানসভার স্পিকার হবেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ই। স্পিকার নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করবেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পার্থ জানান, মমতা ব্যানার্জি ঠিক করবেন কারা মন্ত্রী হবেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিধায়কদের মমতা বলেছেন, বিধায়ক হয়ে যাওয়ার পরে অহংকার করলে চলবে না। জিতে যাওয়ায় দায়িত্ব আরও বেড়েছে। আপনারা যোগ্য জবাব দিয়ে জিতেছেন। আমাদের জয়ে সারা দেশের মানুষ খুশি হয়েছে। দেশের সব বিরোধীরা খুশি হয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এর আগে কালীঘাটে মমতা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর তার সরকারের প্রধান কাজ হবে রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। তার পরই বিজয় উৎসব করবেন তারা।

 

নন্দীগ্রাম নিয়ে আদালতে যাচ্ছে তৃণমূল : পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের ফল নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতেই যেতে চলেছে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনটাই জানালেন ওই কেন্দ্র  থেকে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়েও একমাত্র কাঁটা নন্দীগ্রামে দলনেত্রীর পরাজয়। রবিবার ভোট গণনার দিন সকাল থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছিল মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে। শেষমেশ বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যায় ১২০০ ভোটে নন্দীগ্রামে জিতেছেন মমতা। যদিও আধা ঘণ্টার মধ্যেই আবার জানা যায় ওই কেন্দ্রে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর শুভেন্দুর প্রাপ্ত ভোট ১,১০,৭৬৪, অন্যদিকে মমতার প্রাপ্ত ভোট ১,০৮,৮০৮, সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষি মুখার্জি পেয়েছেন ৬২৬৭টি ভোট। স্বাভাবিকভাবেই একবার জয়, পরক্ষণেই পরাজয় ঘোষণার ফল মানতে রাজি হয়নি তৃণমূল। ফল প্রকাশের পরই পুনঃগণনার দাবি জানায় তারা। কিন্তু কমিশন তাতে সম্মতি দেয়নি। গণনার ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে কালীঘাটে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঘুরিয়ে সেই কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার রাস্তাও খোলা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সঙ্গে নিজের মোবাইলের একটি মেসেজ উল্লেখ করে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। তার দাবি পুনঃগণনার আদেশ দিলে ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (আরও) খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই তা দেওয়া হয়নি। মমতার এই মন্তব্যেই রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়। তিনি বলেন ‘রাত ১১টা নাগাদ আমি একটা এসএমএস পাই। কারও কাছ থেকে আমি সেটা পেয়েছি। যেখানে নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার (আরও) তারই এক পরিচিত ব্যক্তিকে লিখেছেন যে ‘আমি যদি পুনরায় গণনার আদেশ দিই তবে আমার এবং আমার পরিবারের জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে।’ তিনি বলেন ‘সব জায়গায় এক ফল আর একটা জায়গায় অন্য ফল… হঠাৎ করেই ৮ হাজার ভোট হয়ে গেল শূন্য। রবিবার ওই ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সার্ভারকে বিকল করে রাখা হয়েছিল, এরপর ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল, ইভিএম পাল্টেছে। তার অভিমত ‘এখানে তো ভয়ের কিছু নেই, এটা তো যে কেউ চাইতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রিকাউন্টিং দিল না কেন? তাদের স্বার্থটা কোথায়? আসলে রিটার্নিং অফিসারকেও বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সব গণমাধ্যমের কর্মীরা দেখল, নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে দিল, রাজ্যপাল আমাকেও ফোন করল আর এরপরই সব উল্টে গেল! এত বড় মাফিয়াগিরি আমি কোথাও দেখিনি। যাই হোক আমরা এর বিচার চাই। আমরা নিশ্চয়ই আদালতে যাব।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 "দৈনিক চট্টগ্রামের পাতা"
Design & Developed BY N Host BD